- Powered by
- WordPress
-
সম্মোহন
আসমা অধরা চড়ুই উড়তে দেখলেই আঁকছো গুলতি ও ঢিল; গাধার মতো নড়ে উঠছে তোমাদের কান। কতল পবিত্র বলে, পানির খোঁজে কাঁপছে দুটো চোখ! ত্রাহি চিৎকার, ওড়ার কোশিশ; পাখনা নেই, নেই উড়ান। অথচ পবিত্র কতলের পর, হুরের ডানা পাবার আশায় ছাল ছাড়ানো বাদামের জেল্লায় চকচকে হয়ে উঠেছিল গালের চামড়া! গড়িয়ে আসছে কিছু হাত ও পা কাটা…
-
রবিশস্যের দিনে
মুজিব ইরম মানুষ গোলাপ গ্রামে যাবেচা বাগানে যাবেযাবে শাপলা বিলেলালপদ্ম ঝিলেশিমুল বাগানেলালাখালেসাদা পাথরের জলেরাতারগুলেজলেস্থলেপাহাড়ে পাহাড়ে… কোথাও যাবো না আরআলুক্ষেতে বসে বসে বিকাল দেখিবোসূর্য নামিবে ধীরেকাঁধে তুমি রাখিবে তোমার কাঁধমরমিয়া খোঁপা যেন ভেঙ্গে ভেঙ্গে পড়ে… পৃথিবীতে ঘুরেফিরে আসে যেন এই শীতকালতুমি আমি দোঁহে মিলেদেখিবো আনাজ ফুলে নামিছে বিকাল।
-
জলমেজাজের গা
ফরিদুল আজাদ মিলন ওটা আর নেই হারিয়ে যাওয়া ছোট্ট নদি— এসেছিল হো-হো করে তেড়ে নিজ স্রোতের ভেলায় কুকুরপর্বপরা সাঁতার ত্বরণে ছুটা দখিণাআজ শুধুই মরুতৃষ্ণার বালিহারপুর হঠাৎ কড়াপড়া বহুদিন গততে চৌকাঠে থাবার আঁচড়ভেজানো দরজা খুলতেই সেই-সে কুকুর লাফিয়ে বুকের উবুতেতীব্রচাটনে গাল চেটে মাখালো আদরলালাআহারে কাকপুরুষের নদি বুঝেনাতোলালা ও থুতুর ফারাক— অভিন্ন কিছু কি গাঁয়ের গল্পেরা মরেপুড়েছাই…
-
মহেঞ্জোদারোতে একদিন
জয়তী দাস দেয়ালের দিকে ঠেস দিয়ে জ্বলে আছে মোমবাতি কতগুলো সন্ধ্যা পার হয়ে গেলো ছায়াদের ঘরে। চানাচুরের বিচ্ছিন্ন টুকরো মুখে পিঁপড়েরা বেঘোরে ঘুমায়…. এ পর্যন্ত থাক —শোকসভা মুলতবি রাখা যাচ্ছে না কিছুতেই অথচ শীতকালও পারছি না বলতেকনকনে ঝঞ্জাট, উত্তরে বেশ সাজা পেয়েছে গুম ঘরে। মিউজিয়ামে ঢুকে পড়েছি টিকিট কেটে হাত নেই ছাপ আছে, মানুষ নেই হিরের আংটি আছে, দুই প্রতিমূর্তি- অশ্বের পিঠে…
-
প্রকৃতির মাঝেই
এস আফরোজ দিন-রাত সারাক্ষণকাটছে বেশ,কম্পিউটার- টিভি- ফোনেরঅনাকাঙ্খিত রেস। শিশুদের মাঝে নেই কোনপ্রকৃতির ছোঁয়া,খেলার মাঠের হুটোপুটিস্বর্গীয় আনন্দের খেয়া। এসো তবে খেলার মাঠেকচি-কাঁচার দল,প্রকৃতির মাঝেই গড়ুকশৈশবের সরোগোল।
-
অন্ধকারে ছুঁড়লে কেন ঢিল
পিয়াল রায় অন্ধকারে ছুঁড়লে কেন ঢিলঅন্ধকারেই তাল হল যে তিল অন্ধকারেই জামার ভিতর হাতকরলে তুমি তোমায় আত্মসাৎ খেললে এমন জীবন মরণ খেলাঅফিস টাইম রান্নাবাড়ির ঠেলায় কী আর হবে এখন যদি আঁকোওই উঠোনে সহজসরল সাঁকো লেবুফুলের গন্ধ নিয়ে চুলেএখন যদি দাঁড়াও হৃদয় খুলে কিছুই তো নেই ধুলোর মুঠি ছাড়াভেজা ভেজা অন্ধকারের পাড়ায় — সে আর নিতে…
-
মহাকাঙ্খা
এম এ ওয়াহিদ বিশ্বযুদ্ধও পৃথিবীর দোরগোড়ায় এসে হাজির হয়েছে প্রিয়তমা।আমি বিশ্বযুদ্ধের ডাক উপেক্ষা করার আস্পর্ধা দেখাবো শুধু তোমার ভালোবাসা পেলে।ব্যালিস্টিক মিসাইল উড়া শহরের বুকে নির্ভয়ে ঘুমাবো পরমানন্দে।বিশ্বের সব নৌ ও পদাতিক বাহিনীর দিকে কলহাস্য ছুঁড়ে দেবো শুধুমাত্র তোমার ভালোবাসা পেলে। তোমার ভালোবাসা পেলে ধ্বংসযজ্ঞ যে-কোনো শহরের বুকে আবার বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখতে পারি যখন তখন।…
-
প্রতিশ্রুতি
মধুমিতা দত্ত ক আকাশজোড়া লালিমায় রঙিন হয়ে উঠেছে নিঃস্তব্ধ সন্ধ্যার সায়াহ্ন। ঢেউয়ের গর্জন মনে করিয়ে দেয়—সবকিছু আসে আর চলে যায়, কিন্তু সুর থেকে যায় চিরকাল। সমুদ্র সৈকতের বিস্তৃত বালুচরে দাঁড়িয়ে আছেন দু’জন প্রৌঢ়, প্রৌঢ়া-অরুণেশবাবু ও অরুণাদেবী। দিগন্ত বিস্তৃত নীল জলরাশির বুকে ঢেউয়ের অগণিত নৃত্য-কত প্রাণবন্ত! অরুণাদেবী মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন সেইদিকে। নীল তরঙ্গগুলো যেন তাঁর…
-
এক কালো নেকাব
জাকিয়া রহমান আমি হঠাৎ আড়মোড় ভেঙ্গে উঠেছি কি ঘুম থেকে? চারদিকে কিসের হল্লা এতো!বোধ নেই কতদিন ঘুমিয়ে ছিলাম আমি- রিপভ্যান উইংকলের মতো। কোন এক সময়ের আকাশেঈদের ঝলোমলো বাঁকা চাঁদ দেখতে গিয়েহুমড়ি খেয়ে পড়েছিলাম কি কোথাও হুতাসে- কোন সুড়ঙ্গ পথে হেঁটে হেঁটে পৌঁছেছিলাম কি অন্য কোন দেশে,নাকি ঘুমের যাদু করেছিল আমাকে কেউ? কথা ছিল আজকে নাকি খুশির ঝিকমিক ওড়নাটা- চাঁদের গায়ে আরো করবে ঝকমক।কিন্তু কেন চারদিকে ধোঁয়া ধোঁয়া…
-
বিভেদের দীর্ঘ ছায়া
স্বপন বিশ্বাস ছোট গ্রাম বনকুনি। চারদিকে ধানখেত, মাঝখানে কাঁচা রাস্তা, পুরোনো বটগাছ, আর সন্ধ্যা নামলে শঙ্খধ্বনিতে ভরে ওঠা এক সনাতনী জনপদ। গ্রামের প্রায় সব মানুষই সনাতন ধর্মাবলম্বী—কারও পরিচয় শূদ্র, কারও কপালী, কারও নাপিত কারওবা বৈরাগী। বহু বছর ধরে তারা পাশাপাশি থেকেছে, একে অন্যের ঘরে গিয়েছে, উৎসব-অনুষ্ঠানে একসঙ্গে অংশ নিয়েছে। কিন্তু ঐক্যের ভিতটা ছিল সরলতায় গড়া,…
-
পাগল হাওয়া
কামাল কাদের পৃথিবীতে সব সময়ে নারীর সৌন্দর্যের এবং রূপের জয়-জয়কার। সেটা অনাগত কাল থেকেই। এটা সত্যি ,যে কোনো নারীর রূপ হলো তার গর্বের বিষয়। তাইতো সাধারণ মহিলারা রূপবতী মহিলাদের সৌন্দের্য্যে ঈর্ষা কাতর হয়ে পরে। কিন্তু এই রূপই রুবিনার জীবনে কাল হয়ে উঠবে সেটা রুবিনা কিংবা তার পরিবারের কেউ ঘূর্ণাঅক্ষরে আঁচ করতে পারে নাই। ভাগ্যের লীলা…
-
পরমশুন্য তত্ত্ব
লুৎফা শাহিন শালিক স্বভাবের মন নিয়ে বসে আছি তেঁতুলতলায়তেঁতুল তত্ত্ব ভুলে আলোর সংসার ভাঙি—আজকল বেশ অন্তরঙ্গ আসুখ পুষে রাখি মনেআজকাল অন্ধকারের চিকিৎসা হয় না চেতনার আলোতে শালিক স্বভাব আমার অন্ধকার বোঝে নাশালিক স্বভাব আমার আলো জানে না তেঁতুল গাছ বড্ড অভিমানে আমার ছায়াকে সরিয়ে নেয়ধ্রুপদি বাতাস আমাকে বাউল বাহাস বানায় সন্ধেয়!
-
কর্তিত মস্তকে মুকুট
কামরুজ্জামান গোপন দগ্ধ দলিত রাত নিরকাশ নদীর নম্রতায় ভাসেনির্ঘুম নৌকো এই শ্রাবন্তী প্রহরে—বিচুর্ণ প্রান্তরে ব্যথা ও ইতিহাসের হাহাকারসারা পৃথিবীর কান্না কুড়িয়ে এনেছে মেঘেরা ঢেলে দেবে উদ্ধত পর্বতে শিশুদের রক্তের স্মৃতিশোক যন্ত্রণা অশ্রুর চিৎকারসুর্যাস্তের কর্তিত মস্তকে জমাট আঁধারের মুকুটমায়া স্বপ্ন ফেঁড়ে অরণ্যের নাড়ি ছিঁড়েবেরিয়েছে সভ্যতার কাঁটাবনে মরুর মন্ত্রণা—
-
পুনর্ভবা ও অন্যান্য শীতঋতু
ক ম ল কু জু র কালো মেঘের নদী টাঙ্গনের কুয়াশাতরী ছুঁয়ে ঝিনুকপ্রেমেআসে ভেসে কাঞ্চনজঙ্ঘাআশ্রয়ী বায়ুসকট ভাঙ্গে শৃঙ্খল নিদারুণপিপাসায় অচৈতন্য সময় নেয় শুষে অন্ধকারের শীতার্তস্রোতনক্ষত্রমণ্ডলের আরুশি নিয়ে করতোয়ার পাড়ঘেষে নেমে আসেচেতনাদৈন্য দ্রোণগিরি পর্বত রবির অমৃত রোশনাইয়ে পুনর্ভবারবরফশৈত্য মোক্ষস্রোতে যায় ভেসে তোমার আমার প্রত্যার্পিতযুযুধান শিবির …
-
আমাদের চড়ুই তলা
চৌধুরী মো.তারিক চড়ুই তলায় কেউ আসেনা নিয়মমাফিকপ্রকৃতির দায়ে সন্ধ্যা নামে রাত্রি আসেখদ্দের আসে,রং কড়া চায়ে তৃষ্ণা মিটে।কেটলির সাদা পানি উত্তপ্ত হয়ে উর্ধ্বাকাশে উড়ে যায় তুমি আমি আমরা সবাই নোটিশ ছাড়াই পাড়ি জমাই অচেনা বন্দরে নিরুদ্দেশ হলো কত সতীর্থ অচেনা সন্ধ্যায় জোনাকির আলোয় অবসরে গেছে চায়ের আড্ডা অন্ধকারে ধোঁয়ার কুন্ডলীর মত স্বপ্নবাজ বৃদ্ধের ছাপোষা জীবন ঘাপটি মেরে বসে থাকিঅন্ধকারের সাথে মুখোমুখি চড়ুই তলায় রাত নেমে…
-
ভ্রান্তি বিলাস
আযাদ কালাম একদিন সব চলে যাবে পরমে। থরে থরে সাজানো পানি মিশে যাবে পানিতে। আকাশে উড়বে পাখি মেঘের পালকে। গাছের খাদ্য হবে মাটির প্রোটিন পোকাদের পরম আদরে। সবটুকু নুন সাথে নিয়ে বয়ে যাবে নদি মানুষ থমকে দাঁড়াতে চায় অজানা দ্বিধায়। কিছুদিন পর অনুজেরা বিভোর হবে সহপাঠীপ্রেমে। ভ্রান্তি বিলাস টিকে থাকে ক্ষণকাল। তুমি আর আমি বাতাস…
-
জোছনায় আঁকা সময়গুলো
মাসুদ মুস্তাফিজ আমি কী বিমুঢ় সময়ে বেঁচে আছি—এলিন জোছনায় আমার রাস্তা পুড়ে যাচ্ছে বাতাসআর মায়াজাল উঠে আসছে কতোকিছুর অনির্দিষ্ট ভয়েহায়রে দূরগামী প্রেমের শব্দজল!তুমি আসো হৃদয়জ ঠিকানায়—শুধু স্মৃতি কাছে আসে নাএই চন্দ্রধরপুর শীতরাতে দু:খরঙ্গ চিত্রশালায়পলকের তীব্র জলোচ্ছাস মায়াবি ছায়া হয়ে সরে যায়দিগন্ত হারালাম—সাতবর্ণের স্বপ্নে আড়ালে অলক্ষপথেও মানুষ ও মানুষমগ্নতার নীলরেখা অস্তিত্বের আলোকআর শীলভদ্রের কল্লোলিত লিপিছেয়ে—মানুষ এসেছে…
-
পোকায় ধরা রোদ্দুর
বর্ণালী কোলে দুপুর অরণ্য থেকেঝাঁকে ঝাঁকে বেরিয়ে আসছেবিষ পিঁপড়ে চোখের পাতায় যন্ত্রণা, আঠার মতো ব্যথাকে যেন লাঠি দিয়ে পেটাচ্ছে ল্যাংটো হয়ে দাঁড়িয়েবসু বাড়ির পঞ্চাশ বছরের আধপাগলা লোকটামাছের ডিমের বড়া চুরি করে খাওয়ার অপরাধেওর ভাই, ভাইয়ের বউ বাড়ি থেকে বার করে দিয়েছে এই জীবন, এই পোকায় ধরা রোদ্দুরআমি লিখি কীভাবে!
-
ঈদ মানে শান্তি
সাওদা মুমিন রহমত, মাগফিরাত, নাজাতের বারতানিয়ে এলো ঈদ, আল্লাহর দাতারোজার ত্যাগে পেয়েছি পুরস্কারসিয়ামের ফল, প্রভুর অপারআল্লাহর ডাকে রেখেছি রোজাতাওবার জলে ধুয়েছি সব ভ্রান্ত কথাজাকাতের মাধ্যমে শিখেছি দানঈদের সকালে পেয়েছি সম্মানঈদ মানে শান্তি, ঈদ মানে নৈতিকতাভ্রাতৃত্ব, করুণা, প্রেমের ব্যাখ্যাঈদগাহে মিলে দাঁড়াই সারিতেআল্লাহু আকবার ধ্বনি প্রতিটি শিরিতেদুঃখীকে হাসাও, গরিবকে দাওআনন্দ বিলাও, অহং ত্যাগ করাওঈদের শিক্ষা হোক জীবনের…
-
বাতুন
শঙ্কর বসু লুকিয়ে ভালবাসবো, চাঁদের গায়ে লাগিয়ে চাঁদগোলাপ-কাঁটা চাঁদ-গোলাপি জ্যোৎস্না-অবসাদকাটবে ধীরে, ধীর-সমীরে …সন্ধ্যারাগে…তপ্ত মা-নিষাদ …শাপ কাটবে, শঙ্খরবে, শান্ত শিবের স্তবে … শোন রে, বিষাদিনী,এই দীনদুনিয়ায়, ভবেতোকে,ডানহাতের-এই তালুর মতো চিনি … একলাটে, একরোখাতুই আমার অ-পর, দিলখোলা, আর, আমার মতোই ভুবনভোলা, বোকা — বিষাদ-উপাদানে বিষের জারণতোর, কারণ-শরীর জুড়ে …তাই, মনের কথা মুখে আনতে আশ্লেষ-নিরত ঝিম্-দুপুরেঠোঁটের কাছে ঠোঁট…
-
ছায়ার জালে ভালোবাসা
ছায়ার জালে ভালোবাসাকাজল রশীদ মেঘের অম্লান ভালোবাসা আর বৃষ্টির অশ্রুপ্রবাহ প্রেম কি এক নয়সময়ের অনিশ্চিত পথ আর কালের অন্তরালও কি এক নয়অনেক ক্ষণ তুমি ছায়ার অবরোধ মাড়িয়ে চলে যাওঅজ্ঞাত ভবিষ্যতের অভিসারেআমি নীরবতার জালে জড়িয়ে পড়িতোমার অনুপস্থিতি, তোমার দূরত্বের শূন্যতায় বন্দীআমার ছায়া, আমার মায়ার ক্ষণস্থায়ী ছলে বন্দিতোমার ছায়া সদা উপরে, অচলনীয়, ভেসে যায়দূরে, আরও দূরে যেন…
-
মা কোথায় তোর
মা কোথায় তোর চন্দ্রনাথ শেঠ বাতাস এসে বিলি কেটে দেয়–দিন-সাতের ন্যাড়া চুলে অবিরতমাথার উপর নীল গালিচা পেতে রাখে দিগন্তবিসারী আকাশ…কোয়েল-দোয়েল এসে চক্কর কাটে, ‘আছি আছি আমরা মাথায়…’অনন্ত দু-পেয়ে দু-হেতো—কেউ, সমর্থ হাত-পা-মাথা নিয়েধরে নাকো হাত ; বলে না একবার, ‘মা কোথায় তোর? আয়…’‘সুবিচার হত সবচেয়ে’ উজ্জীবনসংগীত গায় গাছ-পাতা-পাখি…
-
নারী
নারী তমোঘ্ন মুখোপাধ্যায় যেভাবে দেখেছি, তার থেকে বেশি দেখা যেত বুঝি?যে-চোখ জেনেছে স্রেফ রতিমুগ্ধতারদৃশ্য, আর যে-দৃশ্যের কুয়োগাঢ় অন্ধকার হয়ে ধরে আছে মৃত, শান্ত নারী,তাকে পার করা যেত দেখা না-দেখার খেলা বেয়ে?বলা সোজা নয়, যাকে ভূমি ভেবে কৃষিপরিসর সবল পুরাণ জুড়ে লিপিবদ্ধ করেছে আদিম,যাকে সমীক্ষার নীচে বারবার পেয়েকখনও বা মাতৃগর্ভ, কখনও বা স্ত্রী-বিরাগ, আয়ু,কখনও বসন্তসেনা নির্মাণের মৃচ্ছকটিকম্ হয়েছে…
-
লেডিজ অ্যান্ড জেন্টেলমেন, শোনো সম্বোধন
লেডিজ অ্যান্ড জেন্টেলমেন, শোনো সম্বোধন তাপস রায় প্রসাধন খুলে আছে তার। এমন আলুথালু বেশ, যেন শীত উঠবে এইবার এমন অপচয় দিনরাত্রিবোধ, যেসব হাওয়া-বাতাস অভ্যাসে চলাফেরা করততাদেরই অস্বস্তি প্রবল। চোরা-গোপ্তা হানা যেন টের পেতে দেবেযেন এই বিজনতা স্থির করা ছিল। এদিক-ওদিক রাস্তাগুলিও, তোমার চোখে পড়বে অভিমানে চোখেমুখে আঁচল তুলছে বারবার গণনাকারীরা, যারা ক্লান্ত হয়ে ঘুমোতে গিয়েছে,…
-
চোখ, যা দেখেনি
চোখ, যা দেখেনি স্বপন রায় গান পড়ে আছে, দেখেছিলাম। ‘চিলমন’ বা চিক সরিয়ে এক বিমূর্ত শরীর।‘ম্যায় নাদান থাজো ওয়াফা কো তলাশ করতা রহা গালিবইহ না সোচা একদিন আপনি শ্বাঁস ভি বেওয়াফা হো জয়েগী…’চরে বেড়াতাম। জামশেদপুরের তুলকালাম বিষ্টুপুর-বাজার বা সাঁকচির দিকে যেতে যেতে জুবিলি পার্কের দিকে চলে যাওয়াই ছিল যেন আমার নিয়তি।মনে আছে, একটা গান ভাসছিল,ইয়ে…
-
যেসব নারীচরিত্র আমার দেখা হয়নি কোনোদিন
যেসব নারীচরিত্র আমার দেখা হয়নি কোনোদিন কণাদ মুখোপাধ্যায় দিনভর রোদ্দুর ছেনে সন্ধ্যায় দু’হাত ভরে নুড়িপাথর তুলে বাড়ি ফিরত আমার বাবা। মা সেগুলি শিউলি ফুল করে তুলত হাতের ছোঁয়ায়, গোপনে। এক একটা থালায় নক্ষত্রের মতো ফুটে থাকা শিউলি ফুল বেড়ে মা এগিয়ে দিত আমাদের দুই ভাই-বোনের দিকে, আসন পেতে বাবু হয়ে বসে থাকা বাবার সামনে। হাঁড়িতে…
-
পুরুষের চোখে নারী- এক নিষ্পাপ শিশু, ম্যানিকুইন আর এক কাগজ কুড়ানো ছেলের গল্প
পুরুষের চোখে নারী- এক নিষ্পাপ শিশু, ম্যানিকুইন আর এক কাগজ কুড়ানো ছেলের গল্প রাজেশ কুমার নারীর প্রতি দৃষ্টির কথা মনে এলেই সেই এক দৃশ্য চোখের সামনে ভেসে ওঠে বারবার। ফ্ল্যাসব্যাকের মতো নিয়ে যায় ব্যস্ততা ফুরিয়ে আসা এক উঠতি মফস্বল শহরের গাঢ় হয়ে আসা রাতের দিকে। রাস্তার দু-ধারে পেভমেন্টের ওপর পর পর ব্র্যান্ডেড আউটলেট। সামনে কাচ…
-
নারী-স্বাতন্ত্র
নারী-স্বাতন্ত্র এমরান হাসান একবিংশ শতাব্দী মানবসভ্যতার ইতিহাসে অসাধারণ দ্বৈততার যুগ। একদিকে প্রযুক্তির বিস্ফোরণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মহাকাশ অভিযাত্রা, জিন—সম্পাদনা, ডিজিটাল অর্থনীতি—অন্যদিকে লিঙ্গবৈষম্য, সহিংসতা, দেহ—রাজনীতি, এবং সামাজিক শৃঙ্খলের অদৃশ্য শিকল। এই দ্বন্দ্বের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আছে নারী স্বাধীনতার প্রশ্ন—যা কেবল একটি সামাজিক দাবি নয়, বরং একটি সভ্যতার নৈতিক পরিমাপও বটে।এই শতাব্দীতে নারী স্বাধীনতা কেবলমাত্র ভোটাধিকার প্রয়োগ এবং প্রাতিষ্ঠানিক…
-
নাহার মনিকা
অন্ধ চোখে, বন্ধ চোখে নাহার মনিকা পান্নার আব্বা মুখলেসউদ্দীনের বুদ্ধিতে তার অফিসে চাকরী পেয়েছিল রাহাত। খেলোয়াড় কোটায় তার নাম লিষ্টের প্রথমে রাখার জন্য খেলাধুলায় পাওয়া মেডেল, কাপ আর পুরস্কারের তালিকা দিলেও তদবির এমনি এমনি হবে না। বিনিময়ে যে একটা কিছু দিতে হবে তা যে কেউ বুঝবে। মুখলেসউদ্দীনের সংগে পরিচয় সিনেমার মত ঘটনা ছিল। হালকা পলকা মধ্যবয়েসী…
-
শামীম আহমদ
পবিত্র মুখ শামীম আহমদ ভেজা কষ্টগুলো শুকোতে দিয়েছিফাল্গুনের রোদে।অদৃশ্য সুখেরা যদি করে ভিড় ,জানালার কাঁচে,ব্যথা আর আনন্দ যদি ছড়িয়ে দেয় দ্যোতনাঅন্তরের অন্ধকার বারান্দায়তবে চলো আজ, কণ্ঠ ছেড়ে গাই আমার সোনার বাংলা,আমি তোমায় ভালোবাসি… চেয়ে দেখোঢেকিছাঁটা চালের নরম ক্ষীরের ধোঁয়ায় ওঠে ভেসেবাংলার পবিত্র মুখদীর্ঘ অপেক্ষায় কেটে গেছেনিধানের কঠিন প্রহর।
