ক্লান্ত সূর্য শোবার আগে জানলার পর্দা সরিয়ে পড়ার টেবিলে বসে ঘাস ফড়িং
খাদ্য নেই, দুটো শুকনো চিঁড়ে আছে ছিটানো-
ডেস্কের পায়াভারী সংসার
মাথা উপুড় করা চশমায় গোলাপি রঙ
পঠিত পৃষ্ঠা নম্বর ৩০৯-এ মোটা কালির দাগ
তার সাথে শীষ ভাঙা ধানের লক্ষ্মী-ছড়া
তুমি জানোই না- বিড়ালের কি বাঁদরের অথবা পাখির মুহূর্ত যন্ত্রণা
অজগর বৃত্তির আঙুল কেন ফোলা!

বনের ভেতর দিয়ে হেঁটে হয়েছি ক্লান্ত
পাখিদের শব্দ সংগীতে যে নদী ছোঁয়ার কথা
পরিখার জলে শাদা কাফনে মোড়ানো জোড়া বক
সেদিন আর স্নান করা হলও না কিছুতেই
দর্শনীয় আশ্চর্য স্পৃহা তোমার গোমড়া মুখ
প্রাচীন বিস্ময় খুলে রেখেছ নতুন অবয়বে
ছায়ার পাটাতনে শুয়ে শুয়ে ঘুম এসেছিল
এতো গভীর আচ্ছন্ন- সে ঘ্রাণ মাতাল করেছিল
লোমকূপে কম্পিত প্রত্যঙ্গ-যোগ অবিশ্বাস্য!
স্নিগ্ধ অরণ্যে, নদীর কোল ঘেঁষে, লতাগুল্মে
বরাবর একটি পুরনো কুটির কল্পনা করেছি
নীল বনফুল অথবা মধুমঞ্জুরী’র নিবিড় সে ঘরে
বাতাসে সুগন্ধি কণা,
সিঁদুরে লাল টিপ সম্মোহনী- ধ্যান ভগ্ন ঋষির
অভিশাপ নেই, ভোগ নেই, ত্রিনয়ন জুড়ে আলো
খুলছে জট, শুয়ে শুয়ে একে অপরে- একটি পৃথিবী গড়ছি ভবিষ্যতের।
কেন ক্লান্তি আসে, পিয়াসার কুয়োর ভেতরে
বৈদ্যুতিক অন্ধকার
আরো গভীরে আবিষ্কার করছি অব্যর্থ যন্ত্রণা
ক্রমে গাঢ় হচ্ছে, চোখের পাতায় শুধু সমস্ত ক্ষোভ
এলোমেলো চুলের ভেতর তোমার সাহসী আঙুল
পরিবর্তিত ত্বরণে ত্রিশঙ্কু দশা
ভোর হতে হতে ধান পেকে যায়, সোনালী শীষের
উপর হীরের নাকফুল দেখি
ঘামের মতো সুন্দর উপমেয়রূপে।


Discover more from Shikor

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply

Trending

Discover more from শিকড়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading