বেদনার পঙক্তিমালা
(উৎসর্গ: কবিতার প্রিয় মানুষ— শামীম আজাদ,
শ্রদ্ধাভাজনেষু)
নিজেকে আজ বড়ো বিচিত্র লাগে;
মনে হয় কার অচেনা ছায়া এসে
নিজের উপরেই নিজেকেই ঢেকে রাখে নিশ্চুপ।
দৈনন্দিনের নীরসতা, ভাবনার ভিড়
মগজের ভেতর কুণ্ডলী পাকিয়ে ওঠে
ঘনান্ধকার অরণ্যের মতো।
আমি আজ নির্বাক, বিমূঢ়।
চারপাশে কান পাতলেই শুনি
মানুষের নীরব দীর্ঘশ্বাস;
চোখে ভাসে ক্ষয়িত শরীর—
জীবনের ক্ষয়, দেহের অবসাদ,
রোদে-জলে বিবর্ণ স্বপ্নের মুছে যাওয়া ছায়া।
তাদের কামনা-বাসনার বিবর্ণ বীজ
রোপণ করতে পারিনি আশার উর্বর বুকে;
দুঃসহ জীবনের নোনাজল
শুষে নিতে পারিনি হৃদয়ের উষ্ণতায়।
মানুষের এই নিঃসহায় পথচলা,
নৈরাজ্যের মতো ছড়িয়ে থাকা হতাশা
আমাকে করেছে স্তব্ধ।
আমি যেন শুধু নিঃশব্দ, ক্লান্ত পথিক
অসহায়তার এক নিঃসীম সাগরে ভাসমান!
তাই আজও রাতের তারাভরা নৈঃশব্দ্যে
কলম হাতে বসে আছি একাকী;
মানুষের অজস্র অনুঝর বেদনা
নিজস্ব অক্ষমতার প্রদীপে জ্বেলে
লিখে যাই নিঃশন্তা- বেদনার পঙক্তিমালা।






Leave a Reply