আমি আর কোথায় যাবো?

অনার্য শান্ত

সোমেশ্বরীর তীর ধরে বড় হচ্ছে রাস্তা,
পাড় ধরে গাছেদের সংসার।
বরুণ বরই আম কড়ই ঢোল কলমী
এদের ভিতর হাসি লুকিয়ে থাকে
লুকিয়ে থাকে অচেনা পাখির ছায়া;
সে গল্প করে,
গল্পের ভিতর বাতাস বালি ঝরায়।
ওখানে অনেক গাছ।
জারুল, কড়ই, অশোক-পাতা।
বাচ্চারা রাস্তার ধুলো ওড়ায়-
মাটির ভিতর পুরোনো হাড়ের মতো
শৈশব তুলে আনে।
ওরা দেখে, ওরা শোনে-
একটা পৃথিবী
লালচে ধুলোয় হাঁটছে কেমন।
ওখানে ব্যথার মতো গাছ,
নদীপাড়ের অন্ধকার,
ধরিত্রীর শেষ নিনাদ।

আবার কবে ফিরবে সাঁই?
আলপাশ ধরে জল গড়িয়ে পড়ে,
চোখের ওপর নেমে আসে গলন।
তুমিই নীল, তুমিই অশরীর-
তুমিই রাতের বেপরোয়া শরীর।
তরঙ্গ-ঘায়ে কাঁপে মানুষ,
নৌকা-সাজা একা শরীর;
পা ফেলে জলপকেটে,
বৈঠা তোলে সংসারের মতো।
ওখানে আকাশ নাকি উনুন রেখে যায়, মাগো-
ঘর প্রহর গোনে;
কে আবার আসবে, কে দেবে নাম?
ফিরে এসো সাঁই, ফিরে এসো—
ভাসিয়ে দাও দেহ, দ্যোতনা, দিগন্ত।

তারপর আসে আর-একজন-
গন্ধমাখা দুধের ভেতর ঢুকে।
প্রৌঢ় বেঞ্চে বসে থাকে
একটা কালো আলো।
প্রৌঢ় মানেই ধুলো-ছাওয়া বিশ্রাম।
প্রৌঢ়া রুটি সেঁকে;
অন্য হাত তার অকারণ নোনা।
পৌঢ় মানে দাদু
মানেই অমূলক ভঙ্গুরতা-
নিমকি, মুড়কি, চানাচুরের মতো
জীবনের লবণ।
মানুষ আসে, চা খায়,
খুচরো দেয়, খুচরো ভুলে যায়।
সব গুনে রাখে—
দিনের ওজন।
বুড়িরা জটলা বাঁধে পানের বাটায়,
কিমান জর্দাময় আগোয়ান সন্ধ্যা ।
কিশোরীরা জরির মতো সাইকেল আঁকে।
চোখের ভিতর চোখ রেখে
তারা বয়ান বোনে-
বটঝুরির মাদুরে গড়াগড়ি করে
দুপুরের ঘাম শুকোয়।
দাদু-দিদার সংসার মানে
সূর্যোদয়ের সন্তানাদি।
সন্ধের পর
তোতার চায়ের দোকান বসে-
ফাঁকা হলে
অপেক্ষা জমে থাকে টিনের মতো।

আর আমি?
আমিও দেখি না কিছুই।
বসে থাকি, ঠিক
আমার মতো আরেক আমি
আয়নার ভেতর হাঁটে।
লিখতে থাকে কেউ
স্লেটজোড়া নাম—
চকখড়ির গায়ে প্রেমের ধোঁয়া।
অন্ধকার-ঢাকা হাঁড়িতে
ভাতের শব্দ ওঠে।

আমি দেখি না কিছুই—
একলা দোনো-মানুষ
ঘরে ফেরে ছায়া নিয়ে।
ওখানে এখনো
গাছের সমারোহ।
কোথায় যাব?
এই মফস্বল ছেড়ে
আরও ফাঁকা মফস্বলে?


Discover more from Shikor

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply

Trending

Discover more from শিকড়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading