জাকিয়া রহমান

আমি হঠাৎ আড়মোড় ভেঙ্গে উঠেছি কি ঘুম থেকে?  
চারদিকে কিসের হল্লা এতো!
বোধ নেই কতদিন ঘুমিয়ে ছিলাম আমি- 
রিপভ্যান উইংকলের মতো।   
কোন এক সময়ের আকাশে
ঈদের ঝলোমলো বাঁকা চাঁদ দেখতে গিয়ে
হুমড়ি খেয়ে পড়েছিলাম কি কোথাও হুতাসে-  
কোন সুড়ঙ্গ পথে হেঁটে হেঁটে পৌঁছেছিলাম কি অন্য কোন দেশে,
নাকি ঘুমের যাদু করেছিল আমাকে কেউ?   

কথা ছিল আজকে নাকি খুশির ঝিকমিক ওড়নাটা-  
চাঁদের গায়ে আরো করবে ঝকমক।
কিন্তু কেন চারদিকে ধোঁয়া ধোঁয়া এক মোড়ক?    
কোথাও তো যাচ্ছে না শোনা সে ঈদ-গজল,
‘ও মন রমজানের রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’!
শুধু শুনি দীর্ঘশ্বাস! চাঁদের নয়ন কি সজল?   
কি যেন এক বেদনায় যাচে, এ কি পরিণতি আমাদের? 
আমাদের অস্তিত্বকে কেন ঘিরে ধরেছে দুর্দম পর্বত এক অবিশ্বাসের?  

চাঁদের নয়নে ঝরছে অশ্রু টুপটুপ,   
কোন দুঃখের কষাঘাতে মর্মান্তিক কালো ছায়া চারদিকে-  
কেন ম্লান এমন শ্রেয়সী অবয়বের রূপ?
সে মিলন-দীক্ষার গজল তো আর শ্রুত হয়না,
কেউ তো আর হাতে হাত মিলিয়ে একতার গান গায় না।  
কেন এ বিভাজন?
বিস্ফোরিত দম্ভের কার্তুজ সবার কথোপকথন।  
 
চাঁদের বিষণ্ণ ক্ষীণ স্বরে অনুরণন শুনতে পাই দূরান্তে…

ভাবে চাঁদ, আজো দেখো ঐ তরুলতার কি আত্মীয়তা!
জন্ম জন্মান্তর ধরে, কি আদরে জড়িয়ে আছে ওদের সবার আত্না।  
কত ঝড় বাদল, বিদ্যুত তোলায়ারের আস্ফালন-
করতে পারেনি তাদের বিচ্ছিন্ন কি নিস্ফলন।    
তোমরা মানব জাতি কেন খুঁজে ফের ভেদাভেদ?  
আমি এক রিপভ্যান উইংকল, জেগে উঠেছি কেবল
তিপান্ন বছর ঘুমিয়ে, শুধু জানি কাল ঈদের দিন –     

সবার সাথে কোলাকুলির করার দিন।   
চাঁদ সদাই বলতো, বুঝে নাও মানুষ সব সমান,   
সবাই সমান কাউর অধিকার কাউর থেকে বেশি নয়।
আজও উঠেছে ঈদের চাঁদ, কি ঝলমলে বাঁকা হাসি মহান-  
কিন্তু সে আলোর হাসিতে কারো নেই ঠাহর
কারণ, বিবেকের সামনে বেঁধেছে সবাই এক কালো নেকাব
ঘৃণা আর অশান্তির, তাই চোখে নেই একতা আর শান্তির খোয়াব।


Discover more from Shikor

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply

Trending

Discover more from শিকড়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading