ভানুসিংহের ভিক্ষাপাত্র
এইখানে ছিল এক লুপ্ত সাম্রাজ্য- ধানের ঢেউয়ে দুলিত চির-অভিসার, চুম্বনের দাগে রাঙা ভূমি, রাধার অধরে কৃষ্ণের গোপন অঙ্গার।
পৃথিবীর বয়স কত হল সখি? কোন যুগে এ প্রেমারম্ভ? আমার নগ্ন পায়ে মর্মরধ্বনি বাজে, বৃন্দাবনের পথে হারানো নূপুর নিক্কন।
করতলে বেণীমাধবের ফুল-পঞ্জিকা – লিখা আছে জন্ম-মৃত্যুর তিথি, দিকভ্রান্ত এক্কা-দোক্কা খেলে যায় কাল, যেন লীলা, সবই অনিত্য স্মৃতি।
এই সাম্রাজ্যে কালো শকুনির ডিম, চার পয়সায় কিনিল বাসুদেব তনয়, ভেবেছিল, পারদের ডানায় ভর দিয়ে উড়িবে দূর, সকল বেদনাকে করিবে ক্ষয়।
নিশ্চিন্তপুর ছাড়ায়ে, মধুখালি বিলের নীল স্বপ্ন পেরিয়ে – রাধা শুধু চায় বৃন্দাবন ছাড়িতে,বাঁশির টানে ফিরে আসে,ফিরিতেছে হায়।
কোথাও যাওয়া হল না, ওই তো জাহাজঘাটা, ওই তো রণতরী, তবু মাটির বুক আঁচড়ে খুঁজে প্রতিদিন- সুগন্ধি চাল, চাঁদের বাড়ি।
সখি, এ কি মায়ার খেলা? না কি চির-বিরহ বিধান?
এখানেই এক দ্বিপ্রহরে যুদ্ধ হয়েছিল, আমার বুকে বিধিল তির- রক্ত ঝরে, যেন প্রেম, অনিঃশেষ, অধীর।
আমি খুঁজি আমার সমাধি— শকুনির ডিমে, প্রেমিকার বুকে, আতপ চালের গন্ধে, স্মৃতির ধূলোয়, খইয়ের মতো উড়ে যায় দিনগুলি সুখে-দুঃখে।
দূর হতে কে ডাকে? বাঁশির স্বর, শোকের সুরে?
হারায়ে যেতে যেতে, হাঁটু গেড়ে বসি পুনরায়- হে প্রিয়, দাও জল, দাও আলো, না হয় দাও অধরের ক্ষতচিহ্ন, যেথা প্রেমে ও বিরহে একই ছায়া রয়।






Leave a Reply