রবীন্দ্র ঐশ্বর্য
নিভৃত অনাদি বিষণ্নতা হতে
এক দিব্য মানব অবতীর্ণ বাংলার মৃত্তিকায়
মানব ধর্ম তার সহজাত সঞ্চয়
কেবল কবি বা লেখক নন
মহাকালের উচ্চারিত এক অনন্ত-মন্ত্র–
ধ্বনিত প্রতিধ্বনিত
পদ্মার জলরেখায়,
শালবনের নিঃসঙ্গ বাতাসে,
মানুষের অন্তর্লীন চৈতন্যে।
তাঁর কলম–
সভ্যতার সুদীর্ঘ নিঃসঙ্গ আর্তনাদ,
মানবমুক্তির গূঢ় উপাখ্যান,
প্রেমের অতল ঐশ্বর্য,
এবং মৃত্যুকে অতিক্রম করা সত্তার দীপ্ত অনিবার্যতা।
তিনি লিখেন—
অগ্নি ও অশ্রুর সম্মিলিত উপনিষদ।
তাঁর সংগীত ও কবিতায়
ব্রহ্মাণ্ডের নৈঃশব্দ্য ধ্বনিময় হয়ে ওঠে,
জীবন আবিষ্কার করে গূঢ়তম অর্থ…
পৃথিবী আত্মবিস্মৃত অন্ধকারে নিমজ্জিত,
রবীন্দ্র প্রদীপ দাঁড়িয়ে থাকেন—
কালে আকালে
ভ্রষ্টদের স্মরণ করিয়ে দিতে–
সৌন্দর্য এখনো পবিত্র,
করুণা এখনো সম্ভব,
সহজাত প্রবৃত্তিই মানবজন্মের সর্বোচ্চ সুষমা…
আর ভাষা হয়ে উঠে
স্পন্দনমুখর এক নান্দনিক অলঙ্কার।
Leave a Reply