ফারুক আহমদ


সম্মিলিত সাংস্কৃতিক পরিষদ মূলত বিলাতের বিভিন্ন সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সম্মিলিত রূপ। বিলাতের বাংলা সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে ঐক্য ও সেতুবন্ধন রচনা করে এই বহুজাতিক সমাজে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রচার ও প্রসারকে আরো বেগবান করতে সংগঠনটির জন্ম।
এ লক্ষে সংগঠক গোলাম মোস্তফা, ছড়াকার দিলু নাসের ও কবি মাশুক ইবনে আনিসের উদ্যোগে উদীচীর সভাপতি গোলাম মোস্তফাকে আহবায়ক, মাশুক ইবনে আনিসকে যুগ্ম-আহবায়ক ও দিলু নাসেরকে সদস্য সচিব করে ২০০৯ সালে গঠন করা হয় প্রথম আহবায়ক কমিটি।
পরে উদীচী, সংহতি সাহিত্য পরিষদ, মহুয়া আর্টস, মৌলিক আর্টস ইত্যাদি সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে নির্বাচিত কমিটি সংগঠনটির নামকরণ করে ‘সম্মিলিত সাংস্কৃতিক পরিষদ যুক্তরাজ্য’।
পরবর্তীকালে এটির সঙ্গে যুক্ত হয় বিশ্ব সাহিত্যকেন্দ্র, কবিতা পরিষদ, সিতার ফিউশন, তানপুরা, শব্দপাঠ, তৃতীয় ধারা, মূলধারা, ইমোহার্ক ইত্যাদি সংগঠনগুলো। এই সংগঠনগুলোর সদস্যদের নিয়ে গঠিত হয় কার্যকরি কমিটি। সভাপতি মনোনীত হন গোলাম মোস্তফা; সহ-সভাপতি: ইসহাক কাজল, মাশুক ইবনে আনিস, ফারুক আহমদ রনি, দেলোয়ার হোসেন মঞ্জু, ও হাসান হাফিজুর রহমান; জেনারেল সেক্রেটারি দিলু নাসের, অ্যাসিসট্যান্ড জেনারেল সেক্রেটারি: সরোয়ার-ই-আলম, ট্রেজারার: ইকবাল হোসেন বুলবুল; অর্গানাইজিং সেক্রেটারি: প্রসেনজিৎ দত্ত এবং প্রেস সেক্রেটারি: মোস্তাক বাবুল।
সদস্য: মুজিব ইরম, শামীম সাহান, ইয়াসমীন সুলতানা পলিন, ড. সুপ্রিয় রায়, জাহিদ মিয়া, শামসুর রহমান, সাদিয়া আফরোজ চৌধুরী, ড. মুকিদ চৌধুরী প্রমুখ। উপদেষ্টাম-লীতে ছিলেন: আবদুল গাফফার চৌধুরী, নূরুল ইসলাম, ডাক্তার মুখলেসুর রহমান, নাজিম চৌধুরী, ফারুক আহমদ, শামসুল হক ও শাহ এনামূল হক।

এটি গঠনের পর পরই ২০১০ সালের ১১, ১২ ও ১৩ জুলাই পূর্ব লন্ডনের ব্রাডি আর্ট সেন্টারে আয়োজন করা হয় তিন দিনব্যাপী ‘বাংলা একাডেমি বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব’। এই মেলা ও উৎসবকে কেন্দ্র করে আয়োজন করা হয় স্বরচিত কবিতা পাঠ, আবৃতি, গান, প্রবন্ধপাঠ ইত্যাদি বিভিন্ন অনুষ্ঠান। ‘সম্মিলিত সাংস্কৃতিক পরিষদ যুক্তরাজ্যে’-এর আয়োজনে এবং লন্ডনসহ গোটা বিলাতের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিককর্মীদের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসবে যোগ দিতে বাংলাদেশ থেকে আসেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক প্রফেসর শামসুজ্জামান খান। উদ্বোধন করে সাহিত্যিক-সাংবাদিক ও কলামিস্ট আবদুল গাফফার চৌধুরী।

বাংলা একাডেমির সংগে বাংলাদেশ থেকে এসে যোগ দেয় ঢাকার ‘ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ’। এর পর থেকে ‘সম্মিলিত সাংস্কৃতিক পরিষদ যুক্তরাজ্য’-এর আয়োজনে প্রতি বছর লন্ডনে ‘বাংলা একাডেমি বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২০১১ সালে ‘বাংলা একাডেমি বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব’ অনুষ্ঠিত হয় ১৭, ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর। এই মেলাকে কেন্দ্র করে বাংলা একাডেমি একটি যুগান্তকারী প্রদক্ষেপ ছিল ‘বাংলা একাডেমির প্রবাসী লেখক পুরস্কার’-এর প্রবর্তন। সে বছর পূর্ব লন্ডনের ব্রাডি আর্ট সেন্টারে অনুষ্ঠিত বইমেলার উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাক্তার দীপু মনি। শেষ দিনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।
অনুষ্ঠানে ‘বাংলা একাডেমি প্রবাসী লেখক পুরস্কার’ প্রাপ্ত ব্যক্তি হিসেবে কবি ও কথাসাহিত্যিক কাদের মাহমুদের নাম ঘোষণা করা হয়। ২০১২ সালে এই বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত হয় ৮ ও ৯ জুলাই আবারও পূর্ব লন্ডনের ব্রাডি আর্টি সেন্টারে এবং ১০ জুলাই ‘হোয়াটচ্যাপল আইডিয়া স্টোর’ লাইব্রেরিতে। বাংলাদেশ থেকে এসেছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক প্রফেসর শামসুজ্জামান খান এবং লন্ডন থেকে যোগ দেন মাইকেল ও রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত অনুবাদক অধ্যাপক উইলিয়াম রাদিচে। সে বছর কবিতা ও কথাসাহিত্যে ‘বাংলা একাডেমি প্রবাসী সাহিত্যপুরস্কার’ পান ডাক্তার মাসুদ আহমদ ও সালেহা চৌধুরী। ২০১৩ সালের বইমেলা অনুষ্ঠিত হয় ১৫ ও ১৬ জুন পূর্ব লন্ডনের ব্রাডি আর্ট সেন্টারে এবং সমাপনী অনুষ্ঠান ২০ জুন হোয়াইটচ্যাপল রোডস্থ আইডিয়া স্টোরে। বইমেলা উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের মাননীয় সাংস্কৃতিমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ।
মেলায় যোগ দিতে বাংলাদেশ থেকে আসেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক প্রফেসর শামসুজ্জামান খান, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা সচিব কবি কামাল চৌধুরী ও বাংলা অ্যাকাডেমির অন্যতম পরিচালক শাহিদা খাতুন। সে বছর ইউরোপের তিনজন লেখক তাঁদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে গবেষণায়কর্মের জন্য ‘বাংলা একাডেমি প্রবাসী লেখক পুরস্কার’ পান।
এঁরা ছিলেন লন্ডনবাসী লেখকসাংবাদিক ইসহাক কাজল ও ফারুক আহমদ এবং বিজ্ঞানবিষয়ক গবেষণার জন্য জার্মানবাসী লেখক ড. মোহাম্মদ জাকারিয়া। বাংলা একাডেমি প্রবাসী লেখক পুরস্কার থেকে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ পুরস্কার ২০১৪ সালে ‘বাংলা একাডেমির প্রবাসী লেখক পুরস্কার’-এ ‘প্রবাসী’ শব্দটি নিয়ে কয়েকজন লেখক প্রশ্ন তোলেন। তাঁদের যুক্তি ছিল ‘প্রবাসী’ কথাটি দ্বারা দেশের বাইরে অবস্থানরত লেখকদের আলাদা করে দেখা হচ্ছে। পরিণামে পুরস্কারটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘বাংলা একাডেমি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ পুরস্কার’।

সেবছর বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত হয় ৫ -৭ ডিসেম্বর পূর্ব ১ লন্ডনের গ্রোভ রোডস্থ, দ্য আর্ট পেভিলিয়ানে। উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক প্রফেসর শামসুজ্জামান খান ও সাংবাদিক-কলামিস্ট আবদুল গাফফার চৌধুরী।
সে বছর বাংলা অ্যাকাডেমি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ পদকপ্রাপ্তরা ছিলেন কানাডাবাসী সৈয়দ ইকবাল ও ইকবাল হাসান। ২০১৫ সালে বাংলা একাডেমির বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত হয় পূর্ব লন্ডনে কমার্শিয়াল স্ট্রিটস্থ আমানাহ সেন্টারে। ১৫-১৭ অক্টোবর, তিনদিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ও বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক প্রফেসর শামসুজ্জামান খান। সে বছর সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ পুরস্কার পান ফরাসি লেখক প্রফেসর ইমেরিটাস ফ্রাঁস ভট্টাচার্য এবং কথাসাহিত্যিক মঞ্জু ইসলাম (সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম)। ‘বাংলা একাডেমি বইমেলা’ থেকে ‘বাংলাদেশ বইমেলা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক উৎসব’ ২০১৬ সালে বহির্বিশ্বে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে তোলে ধরতে লন্ডনের ‘বাংলা একাডেমি বইমেলা’র নামকরণ করা হয় ‘বাংলাদেশ বইমেলা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক উৎসব’। এই বছর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং ‘সম্মিলিত সাংস্কৃতিক পরিষদ যুক্তরাজ্য’-এর উদ্যোগে বাংলা একাডেমি, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র এবং ‘বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশনা সমিতি’র সহযোগীতায় এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে প্রতি বছর বাংলা একাডেমির সংগে দেশ থেকে এসে মেলায় অংশগ্রহণ করতো ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ, ২০১৬ সাল থেকে এ দুটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মেলায় যোগ হয় জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র, অন্যপ্রকাশ, মওলা ব্রাদার্স, আগামী প্রকাশনী, আহমদ পাবলিশিং হাউস, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন ও কথাপ্রকাশ। এছাড়াও বিলাতের লেখকদের বই নিয়ে ছিল আলাদা স্টল। মেলা উদ্বোধন করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী কবি মাহবুবুল আলম শাকিল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক এম আখতারুজ্জামান, ‘জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশনা সমিতি’র সভাপতি এবং আগামী প্রকাশনীর স্বত্বাধীকারী ওসমান গণি প্রমুখ। দ্বিতীয় দিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাননীয় ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার খন্দকার এম তালহা। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ পুরস্কার লাভ করেন কবি শামীম আজাদ ও নাজমূন নেসা পিয়ারী।

এই বছরই প্রথম মেলায় অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা নিয়ে জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশনা সমিতির কর্মকর্তা ওসমান গণি অভিযোগ তুলেন। বইমেলা থেকে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রত্যাহার নতুন নেতৃত্বে সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতির পরিষদ ২০১৭ সালের ১৫ ও ১৬ অক্টোবর, শনি ও রবিবার, পূর্ব লন্ডনের ওটারলিলিতে ৭ম বারের মতো বাংলাদেশ মেলা এবং সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। মেলা উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী কবি মাহবুবুল আলম শাকিল। দুইদিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাননীয় ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার খন্দকার এম তালহা, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক এম আখতারুজ্জামান এবং ‘বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশনা সমিতি’র সভাপতি ওসমান গণি প্রমুখ। মেলায় পাঠকের চাহিদামতো বই নিয়ে অংশগ্রহণ করে: বাংলা একাডেমি, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র, ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ, অন্যপ্রকাশ, মওলা ব্রাদার্স, আগামী প্রকাশনী, আহমদ পাবলিশার্স, পাঞ্জেরী ও কথাপ্রকাশ। এছাড়াও বিলাতের লেখকদের নিয়ে ছিল আলাদা স্টল। সে বছরও ‘বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশনা সমিতি’র কর্মকর্তা ওসমান গণি দ্বিতীয় বার মেলায় অব্যবস্থাপনা কথা আবারও উল্লেখ করে হতাশা প্রকাশ করেন।

ইতোপূর্বে বাংলা একাডেমি থেকে মেলার জন্য সামান্য অনুদান পাওয়া যেতো। বাকি ব্যয় মেটাতো হতো সদস্যদের টাকায়। ২০১৬ সাল থেকে বাংলাদেশ সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় অনুবাদ দিচ্ছেন তা সংগঠনের সভাপতি ছাড়া অন্যান্য কর্মকর্তারা তা জানতেন না। এমনকি তখন পর্যন্ত সংগঠনের নামে কোনো একাউন্টও ছিল না। পরিণামে ২০১৭ সালে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় মেলার পৃষ্ঠপোষকতা থেকে বিরত থাকেন। সে বছর বাংলা একাডেমি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ পুরস্কার লাভ করেন বিলাতবাসী কবি মুজিব ইরম। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক পরিষদ-এর কমিটির ওপর পর পর দুবছর অব্যবস্থাপনার অভিযোগের পাশাপাশি আগের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ২০১৭-২০১৮ মেয়াদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৭ সালের ২৩ জানুয়ারি। কর্মকর্তা নির্বাচিত হন: সভাপতি: ফারুক আহমদ; সহ-সভাপতি: ইসহাক কাজল, মুজিবুল হক মনি ও কাজল রশীদ; জেনারেল সেক্রেটারি: ইকবাল হোসেন বুলবুল, অ্যাসিসট্যান্ট জেনারেল সেক্রেটারি: এম. মুসাইদ খান; অর্গানাইজিং সেক্রেটারি: স্মৃতি আজাদ; ট্রেজারার: এ. কে. এম. আব্দুল্লাহ; পাবলিসিটি সেক্রেটারি: আনোয়ার শাহজাহান; মিডিয়া ও পাবলিকেশন সেক্রেটারি রেজুয়ান মারুফ। সদস্য: দিলু নাসের, মাশুক ইবনে আনিস, ফারুক আহমদ রনি, আবু মকসুদ ও মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম। এই নির্বাচনের পর কমিটির কমিটির কার্যক্রম বেগবান হয়।

নবনির্বাচিত কর্মকর্তাগণ মেলার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে ২০১৮ সালের ১৮ মার্চ, বঙ্গবন্ধু বইমেলা উপলক্ষে সংস্কৃতিবিষয়ক মাননীয় মন্ত্রী ও বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মহোদয়ের লন্ডন সফর কালে তাঁদের সঙ্গে দেখা করেন। উভয়ে তখন জানান, লন্ডনে ‘বাংলাদেশ বইমেলা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক উৎসব’ উদযাপন বিষয়ে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেজন্য তাঁরা কর্মকর্তাদেরকে মেলার বাজেটের জন্য মন্ত্রণালয় বরাবরে একটি প্রজেক্ট পাঠাবার পরামর্শ দেন। সেই মোতাবেক আবারও সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা আবদুল গাফফার চৌধুরীর সুপারিশপত্রসহ প্রজেক্ট পাঠান। সরকার মেলায় পৃষ্ঠপোষকতা করবে এ খবরটি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নীরবে ঘাপটি মেরে বসে থাকা একটি স্বার্থন্বেষী চক্র, যাদের বিরুদ্ধে মেলা অনুষ্ঠানে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ ছিল তারা মেলাকে বানচাল করার জন্য তৎপর হয়ে ওঠে। ওদিকে মেলার বাজেট যখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে তখন মাননীয় সংস্কৃতিমন্ত্রী মহোদয় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক পরিষদের প্রতিনিধির সঙ্গে এক বৈঠকে জানান যে, লন্ডন থেকে আরেকটি গ্রুপ বইমেলার জন্য বাজেট চেয়ে আবেদন করেছে। এভাবে দলাদলি হলে মেলার জন্য বাজেট বরাদ্দ সম্ভব নয়। এছাড়া নির্বাচন চলে আসছে তাই তবে ২০১৮ সালের বইমেলায় মন্ত্রণালয় থেকে কোনো বরাদ্দ দেয়া সম্ভব নয়। তবে মন্ত্রী মহোদয় ২০১৯ সালের বইমেলার অনুদান দেবার আশ্বাস দেন। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মহোদয়ও ঠিক একই কথা অভিমত ব্যক্ত করেন। মোটকথা, একটি স্বার্থান্বেষী মহলের চক্রান্তের কারণেই এই ঐতিহ্যবাহী মেলাটি নিয়ে নানা দ্বিধাদ্বন্দ্ব তৈরি হবার মধ্য দিয়ে ২০১৮ সালে সংগঠনটি সরকারি কোনো পৃষ্ঠপোষকতা পায়নি। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই লন্ডনে বইমেলা ২০১৮ সাময়িকভাবে মেলায় বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং বাংলা একাডেমি থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা পতে সৃষ্টি হওয়া জটিলতার কারণে ২০১৮ সালের অগাস্ট মাসে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক পরিষদ-এর কর্মকর্তাগণ বিলাতের বাঙালি কমিউনিটির পরামর্শ, সার্বিক সাহায্য ও সহযোগীতা নিয়েই মেলা অনুষ্ঠানের ধারাবাহিক ঐতিহ্য বজায় রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। বিষয়টি নিয়ে তাঁরা সহযোগী সদস্য সংগঠন, লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, রাজনীতিবিদ, লন্ডনের প্রত্যেকটি টিভি চ্যানেল, রেডিও, পত্রিকা, অনলাইন টিভি, অনলাইন পত্রিকা এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। প্রত্যেকটি মহল থেকে সার্বিক সাহায্য ও সহযোগিতার আশ্বাস দেয়া হয়।

বিলাতের বাঙালির কমিউনিটির সার্বিক সহযোগিতায় ২০১৮ সালে সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ-এর বইমেলা অনুষ্ঠিত হয় ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর পূর্ব লন্ডনের ব্রাডি আর্ট অ্যান্ড কমিউনিটি সেন্টারে। মেলাটি ছিল স্মরণ কালের সবচেয়ে জাকঝমকপূর্ণ, উৎসবমুখর ও ক্রেতাবহুল বইমেলা। এতে বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণ করে Ñ আগামী প্রকাশনী, ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ, নালন্দা, উৎস প্রকাশন, অনন্যা প্রকাশনী, প্রান্থ প্রকাশনী, রামন প্রকাশনী, শব্দশৈলী, অনিন্দ্য প্রকাশ, অন্যপ্রকাশ, দ্য ইউনিভার্সিটি একাডেমি, পরিজাত প্রকাশনী, বাসিয়া প্রকাশনী, পা-ুলিপি প্রকাশনী, অনার্য পাবলিকেশন্স সহ আরও বেশ কয়েকটি প্রকাশনা সংস্থা। সে বছর বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য ‘ আবদুল মতিন সাহিত্য পুরস্কার’ এবং সমাজসেবা, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রচার ও প্রসারে বিশেষ অবদানের জন্য ‘তাসাদ্দুক আহমদ পুরষ্কার’ নামে দুটি পদকের প্রবর্তন করা হয়। বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদান রাখার জন্য ‘আবদুল মতিন সাহিত্য পুরস্কার ২০১৮’ লাভ করেন যুক্তরাজ্যবাসী লেখক রব্বানী চৌধুরী এবং বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রচার ও প্রসারে বিশেষ অবদানের জন্য ‘তাসাদ্দুক আহমদ পুরষ্কার ২০১৮’ পান যুক্তরাষ্ট্রবাসী, মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা বিশ্বজিত সাহা। মেলায় বাংলাদেশ থেকে প্রধান অতিথি হয়ে আসেন কবি আসাদ মান্নান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক প্রফেসর সৈয়দ মাহমুদ শাহ কোরেশি, সাংবাদিক-কলামিস্ট আবদুল গাফফার চৌধুরী, কানাডা থেকে কবি সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল, আমেরিকা থেকে কবি আঞ্জুমান রুজি, বাংলাদেশ থেকে মিসেস নাজমা মান্নান, এবং টাওয়ার হ্যামলেট্সের স্পিকার কাউন্সিলর আয়াস মিয়া প্রমুখ।

‘সম্মিলিত সাহিত্য পরিষদ’ থেকে ‘সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ যুক্তরাজ্য’ ২০১৯ সালের বইমেলা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক উৎসব যাতে সুষ্টুভাবে না হয় সেজন্য স্বার্থন্বেষী মহল আগে থেকে তৎপর ছিল। নতুন কমিটি যাতে মেলাটি সুষ্টুভাবে করতে না পারে সেজন্য কৌশলে সংগঠনের নামে কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন করিয়ে নিয়ে ‘সম্মিলিত সাংস্কৃতিক পরিষদ যুক্তরাজ্য’ এই নামে কোনো ধরনের কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। ফলে বাধ্য হয়ে সংগঠনের নামের সংগে ‘সাহিত্য’ শব্দটি যোগে এটির নামকরণ করা হয় ‘সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ যুক্তরাজ্য’।
সে বছর আবারও সে চিহ্নিত মহল মেলা অনুষ্ঠানে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এবং নানা ধরনের চেষ্টা ও অপপ্রচার চালায়। কিন্তু সকল প্রকার প্রতিবন্ধকতার বেড়াজাল ছিন্ন করে বইমেলা অনুষ্ঠিত হয় ২০১৯ সালের ৮ এবং ৯ সেপ্টেম্বর পূর্ব লন্ডনের ব্রাডি আর্ট অ্যান্ড কমিউনিটি সেন্টারে বইমেলা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানে শততম জন্মবার্ষিক ৩ উপলক্ষে মেলাটি উৎসর্গ করা হয়।

মেলায় বাংলাদেশ থেকে প্রধান অতিথি হয়ে আসেন বাংলাদেশ সংস্কৃবিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী কে. এম. খালিদ এমপি, বিশেষ অতিথি ছিলেন যুক্তরাজ্যস্থ বাংলাদেশের মান্যবর হাইকমিশনার মুনা তাসনিম, খ্যাতিমান সাংবাদিক-কলামিস্ট আবদুল গাফফার চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান ভীষ্মদেব চৌধুরী, কথাশিল্পী ডাক্তার শাহাদুজ্জামান ও বাংলাদেশ পুস্তক বিক্রেতা সমিতির সভাপতি ওসমান গণি। আবদুল গাফফার চৌধুরীর মেলা উদ্বোধন করার কথা ছিল। অসুস্থতার কারণে আসতে না পারায় মেলাটি উদ্বোধন করেন মান্যবর হাইকমিশনার। পরে আবদুল গাফফার চৌধুরীর ভিডিও বার্তার মাধ্যমে সভার কাজ শুরু হয়। প্রথম দিনের অনুষ্ঠানমালায় ছিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, আলোচনা, কবিতা পাঠ, কবিতা আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানমালায় ছিল তিনপর্বে তিনটি সেমিনার। প্রথমপর্বে ছিল ‘অনাবাসী সাহিত্য : একটি পর্যালোচনা’।

মূল প্রবন্ধ উপস্থপনা করেন কবি ও কথাশিল্পী হামিদ মোহাম্মদ। আলোচনায় অংশ নেন ভীষ্মদেব চৌধুরী ও শাহাদুজ্জামান। দ্বিতীয়পর্বে ছিল ‘বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে সরকারের কার্যক্রম এবং আমাদের প্রত্যাশা’। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি ড. শেখ মুসলিমা মুন এবং তৃতীয়পর্বে ছিল লেখক-প্রকাশক সম্পর্কবিষয়ক মতবিনিময় সভা। বইমেলায় বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণ করে বাংলা একাডেমি, আগামী প্রকাশনী, ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ, অন্যপ্রকাশ, আহমেদ পাবলিশিং হাউস, পাঞ্জেরি পাবলিকেশন, অনিন্দ্য প্রকাশ, অনার্য পালিকেশন্স, ময়ূরপঙ্খী, পুঁথি নিলয়, পারিজাত প্রকাশনী, নালন্দা, শব্দ নিলয়, পা-ুলিপি প্রকাশন ও বাসিয়া প্রকাশনী। মহামারী করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে ২০২০ ও ২০২১ সালে বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়নি।

২০২২ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সংগঠনের দায়িত্বে আসেন কবি ময়নূর রহমান বাবুল, কবি এ. কে. এম. আবদুল্লাহ এবং লেখকসাংবাদিক আনোয়ার শাহজাহানের নেতৃত্বাধীন কমিটি। ২০২২ সালের ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর পূর্ব লন্ডনের মাইলঅ্যান্ড পার্কের দ্য আর্ট প্যাভেলিয়ানে অনুষ্ঠিত দশম বাংলাদেশ বইমেলা সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক উৎসব। উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিকবিষয়ক মাননীয় উপদেষ্টা গওহর রিজভী। বিশেষ অতিথি ছিলেন যুক্তরাজ্যস্থ বাংলাদেশের হাইকমিশনার মান্যবর সাঈদা মুনা তাসনীম, দৈনিক ইত্তেফক পত্রিকার সাবেক নির্বাহী সম্পাদক ও লেখক মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ তোশারফ আলী ও কথাশিল্পী ডাক্তার শাহাদুজ্জামান। শারীরিক অসুস্থতার কারণে সশরীরে উপস্থিত হতে না পেয়ে ভিড়িও বার্তার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সাফল্য কামনা করে শুভেচ্ছা জানান নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর অমর্ত্য সেন। লেখক-সাংবাদিক-কলামিস্ট আবদুল গাফফার চৌধুরীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুরো অনুষ্ঠান উৎসর্গ করা হয়। সে বছর চালু করা হয় ‘সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পদক’। পুরস্কার লাভ করেন কবি ও ছড়াকার নূরুজ্জামান মনি। মেলায় বাংলা একাডেমিসহ ১৫টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। ২০২৩ সালের ১০ ও ১১ সেপ্টেম্বর পূর্ব লন্ডনের মাইলঅ্যান্ড পার্কের দ্য আর্ট প্যাভেলিয়ানে অনুষ্ঠিত একাদশ বাংলাদেশ বইমেলা সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক উৎসব। বইমেলার উদ্বোধন করেন স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত বরেণ্য রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, একুশে পদকপ্রাপ্ত লেখক যুক্তরাষ্ট্রবাসী লেখক ড. নূরুন্নবী, যুক্তরাজ্যস্থ বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার মান্যবর হযরত আলী খান, বিজ্ঞানী জিনাত নবী, চ্যানেল আই-এর সাংবাদিক ফরিদুর রহমান, বাংলা টিভির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ সামাদুল হক প্রমুখ।

এ বইমেলা উপলক্ষে লন্ডনের ২১ জন লেখকের বই প্রকাশিত হয়। অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিল যুক্তরাজ্যবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান, শিশু-কিশোরদের কবিতা আবৃত্তি, নৃত্য, স্বরচিত কবিতা পাঠ, লার্নিং ডিসঅ্যাবিলিটি শিল্পীদের এবং ‘বর্হিবিশ্বে বাংলা সাহিত্য চর্চার সাম্প্রতিক প্রবণতা‘ এবং ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিলাতের নারী সমাজের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনার। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যখাক্রমে মিলটন রহমান ও ফারুক আহমদ। সে বছর ‘সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পদক ২০২৩’ লাভ করেন কবি হামিদ মোহাম্মদ। মেলায়, বাংলা একাডেমি, দি ইউনির্ভাসিটি প্রেস লিমিটেড, সাহিত্য প্রকাশনী, সময় প্রকাশনী, ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ, কবি প্রকাশনী ইত্যাদি ৮টি প্রকাশনা সংস্থা অংশগ্রহণ করে। মেলা উপলক্ষে প্রকাশিত যুক্তরাজ্যের দশ জন লেখকের বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। ২০২৪ সালের দ্বাদশ বইমেলা সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত হয় ১৪ ও ১৫ সেপ্টেম্বর উল্লিখিত ভ্যানুতেই। এ বছরও মেলার উদ্বোধন করেন সঙ্গীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। সে বছর ‘সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পদক ২০২৪’ লাভ করেন কবি ও সংগঠক ফারুক আহমদ রনি।

২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সংগঠনের দায়িত্বে আসেন কবি মোহাম্মদ ইকবাল, প্রাবন্ধিক-অনুবাদক উদয়শঙ্কর কু-ু (দুর্জয়) এবং হেনা বেগমনের নেতৃত্বাধীন কমিটি।

এ কমিটির নেতৃত্বে ২০২৫ সালের বাংলাদেশ বইমেলা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত হয় ১৪ ও ১৫ সেপ্টেম্বর পূর্ব লন্ডনের ব্রাডি আর্ট অ্যান্ড কমিউনিটি সেন্টারে। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে আগত প্রধান অতিথি, বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক প্রফেসর ড. মাহমুদ শাহ কোরেশী (বাংলাদেশ)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জো উইন্টার (লন্ডন), বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি শামীম আজাদ (লন্ডন), একুশের পদকপ্রাপ্ত শিল্পী শুভ্র দেব (আমেরিকা), কবি আবদুল হাসিব (কানাডা) ও কবি রোকসানা লেইস (কানাডা)। । বাংলাদেশ থেকে ৪ মেলায় অংশগ্রহণ করে দি ইউনির্ভসিটি প্রেস লিমিটেড, সাহিত্য প্রকাশনী, ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ, পরিবার প্রকাশনী, কবি প্রকাশনী, অভ্র প্রকাশনী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক প্রফেসর মাহমুদ শাহ কোরেশী। সে বছর ‘সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পদক ২০২৫’ লাভ করেন কবি ও ছড়াকার দিলু নাসের এবং গুণীজন সম্মাননা লাভ করেন কবি আতাউর রহমান মিলাদ।
এছাড়াও সংগঠনিক কাজে বিশেষ অবদানের জন্য বেস্ট পারফমেন্স মেম্বার অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন নাট্যকর্মী ও আবৃত্তিশিল্পী স্মৃতি আজাদ এবং কবি এম. মোসাইদ খান। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণ করে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড, ইত্যাদি, গ্রন্থ প্রকাশ, পরিবার পাবলিকেশন, স্বরবৃত্ত, কবি প্রকাশনী, অন্বেষা প্রকাশনী এবং অভ্র প্রকাশনী। অনুষ্ঠান সূচির মধ্যে ছিল স্বরচিত কবিতা পাঠ, কবিতা আবৃতি, এবং ‘বাংলা সাহিত্যে অনুবাদের গুরুত্ব’ শীর্ষক সেমিনার। ড. সেলিম জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ কনে কবি মিল্টন রহমান।

আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ড. গৌরাঙ্গ মোহান্ত, কবি ও অনুবাদক জো উইন্টার, মিলটন রহমান ও সাগর রহমান। এ ছাড়াও ছিল ‘পান্ডুলিপি থেকে মঞ্চে’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান। এতে দুইজন কিশোরসহ মোট চৌদ্দ জন লেখকের বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। মেলার সমাপনী দিনে একক সংগীত পরিবেশন করে একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী শুভ্র দেব।

ফারুক আহমদ
লেখক ও গবেষক


Discover more from Shikor

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply

Trending

Discover more from শিকড়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading