শঙ্খ
ফাগুনের বাতাসে ধূপগন্ধী উদোম সন্ধ্যা
বৃষ্টি নামে, লাজুক লতার গায়ে বইছে তুমুল হাওয়া
আহা! স্বপ্ন দেখছিলাম আমি।
যারা পাথর কেটে প্রাগৈতিহাসিক ফসিলে
এঁকে দেয় আমার মুখ
নাক মুখ চিবুকে রক্ত ঝরায় শিল্পিত ছেনি
যন্ত্রণাকাতর পরিশুদ্ধ অবয়ব নিয়ে
আমি তাদের ছায়া কুড়োই, পাশে গিয়ে বসি
দৌড়াতে গেলে হোঁচট খেয়ে পড়ি
কাঁচ বিঁধে যায় পায়ে।
যারা মাটি পুড়িয়ে পুতুল গড়ে
আমায় তারা বাড়ি নিয়ে যায়,
ছাঁচে ফেলে দেশজ রঙের ঘোর মিশিয়ে
ফুটিয়ে তোলে আমার ক্লান্ত ম্রিয়মাণ দুচোখ
তেঁতুল বীজের আঠায়।
তপ্ত প্রহরে দিগন্ত ও কেঁপে কেঁপে উঠে
আমার সুচিক্কণ পিঠ পেতে দেয় আগুনে,
নিজের পোড়া দাহগন্ধ শুষে নিয়ে
অতঃপর, উদ্ভিন্ন সংহিতা আমি
হাটে গিয়ে নিলামে উঠি
দাঁড়িয়ে থাকি ক্রেতার খোঁজে ধ্রুপদী পসরায়।
সবশেষে শঙ্খ কারিগর আমায় হাতে তুলে নেয়
ফুঁ দেয় সুতীব্র বাতাসের
পাঁজরের হাড়ে বেজে উঠে বিষ্ণুপুরি গান,
প্রতিমা হৃদয় শুধু জানে
সমর্পণের বেদীতে বন্দী ফসিল হৃদয়ের তান।






Leave a Reply