ধর্ষণ থেকে ফিরে…

[বারুইপুর রেপ কেসকে সামনে রেখে।]

আমি মেঘের দিকে তাকাই, মেঘও তাকায় আমার দিকে
আমি অন্ধকারে হাঁটি, অন্ধকারও হাঁটে আমার ভিতর
এখন তো এমন হয়েছে যে
আমি আমার লাশ বয়ে বেড়াই, লাশও বয়ে বেড়ায় আমাকে

একটা একটা করে সাতটা জন্ম পেরিয়েছি
কার ক্রুদ্ধ হাত আমাকে নষ্ট করেছে বারবার
এবার অষ্টম গর্ভ,  সব দেখেশুনে যদি মনে হয়
দেরি করা ঠিক না তাহলে চক্র হাতে জন্মাব

উদ্ধত দৈত্যের মতো কারা যেন এখনো সার্কাস সাজাচ্ছে
ঘড়িগুলো সব উল্টে আছে পায়ের কাছে
তাঁবুর চারপাশে ছোট ছোট হজমের অজস্র গুলি
লাল-সবুজ-বেগুনি-গোলাপি-নীল

মাতৃসদনের গেটে কাদের ভিড়?
আমি তো এখুনি জন্মালাম তাতেই এই?
এখনো তো আমার চক্র লুকোনো আছে রক্তনালির ভিতর
লোকগুলো কেমন যেন চেনা চেনা সব
ওরা কি ওই ক্রুদ্ধ হাতের মালিক?
ওরাই কি সার্কাসে সার্কাসে হিংস্র খেলা দেখায়?

আমি এখন ঘুমোবো
একঘন্টার শিশু এরচেয়ে বেশি কিছু করতে পারে না
আমি জানি ওরা এখন ভয় পাবে আমায়
আমার অদৃশ্য  চক্র ওদের মাথার ওপর ঘুরছে
লাল-নীল-বেগুনি-গোলাপি-সবুজ

আমি ব্যথার দিকে তাকাই
ব্যথাগুলো গতজন্ম থেকে ফিকে হতে হতে মিলিয়ে যায়

Discover more from Shikor

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

5 responses to “পিয়াল রায়”

  1. দুর্দান্ত লেখা

  2. শেষ তিনটি লাইনে এসে খেই হারালাম তো … পৌনঃপুনিকের মতো হাজির হলো মনে হলো … অন্যথ্যায় গতিময় ছিল

  3. কাব্য যখন অনুচ্চারিত, বিক্ষুব্ধ সময়ের সোচ্চার শব্দাবলীতে রূপ নেয়, তখনই কবিতা প্রাণ খুঁজে পায়। আর সেই মুহূর্তেই কবি তাঁর সৃষ্টির প্রকৃত সার্থকতা অর্জন করেন।

  4. আমি ব্যথার দিকে তাকাই
    ব্যথাগুলো গতজন্ম থেকে ফিকে হতে হতে মিলিয়ে যায়

  5. চমৎকার

Leave a Reply

Trending

Discover more from শিকড়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading