গুচ্ছ কবিতা
যে কবিতারা জন্ম নেয় কসাইখানায়
আমাদের হাতে আছে নতুন পৃথিবী।
উপযানে চড়ে বসা প্রেমিক প্রেমিকা যত,
দুর্ভাগ্যের কবরে ফুল হাতে দাঁড়িয়েছে সব।
এখন...
লাঙ্গল হাতে কর্ষণে মাতে সবুজ কৃষক।
ইতিহাসের গোলাপি আলোয় মাঠের বুক জুড়ে...
কালনেমি নরকের ক্ষত!
মেয়েটা চুপ, আলতো চিবুক, বুক ঢেকেছে অঙ্কুরিত আদরে।
ঠোঁটের গহ্বরে মর্মর নিঃশেষ এক শূন্য...
ছেলেটা ছিনাল, সারি সারি প্রবাল,
থোকা থোকা লাল আঙ্গুর যেন...
জরায়ুর প্রেম, কালোয় ভরা বিন্দু যত...
যন্ত্রনাময় প্রসব! নক্ষত্রহীন জন্ম সব!
ছেলেটির দিকে সে দৃষ্টিতে স্থির।
হত্যাকে খোদাই করে চলেছে প্রেম!
হঠাৎ শিকারির ডানা আঘাত করে বসলো তাদের...
মেয়েটি লুটিয়ে পড়েছে, কাতরাচ্ছে, পুঁড়ছে নরকের তাপে!
ছেলেটি তখনও নিশ্চুপ...
চোখের জল যেন নরকের কবিতা!
যেমন নীলিমার নীচে আমাদের জীবন...
যেন প্রেমের কবিতা লেখা হচ্ছে কসাইখানায়!
সিঁড়ি ভাঙা খেলা
ধরো...
সিঁড়ি ভাঙার অংকে তুমি প্রথম হলে!
যদি বলি, সিঁড়ি নয় আমার বুকের পাঁজর ভেঙেছ...
চারিদিকে জমাট বাঁধা ঘন কুয়াশায়
কোথাও যেন চটুল হিন্দি গান বাজছে.
‘পেয়ার তো হোনা হি থা’, হতে পারতো, কিন্তু হল না তো!
তোমার ঈষৎ ঝুলে পড়া বুকে কান পেতে শুনি,
কলস দ্বীপের মাঝ বরাবর মৃত্যু উপত্যকায় হেঁটে যাওয়া
স্খলিত হরিণীর ডাক!
জরায়ুর মাংস খোবলানো নষ্ট ভ্রূণের লাব-ডুব দুন্দুভি!
একটা গাছ আর তাকে ঘিরে জীবনের কথা বলা!
সিঁড়িটার শেষ মাথায় তখন জ্যান্ত এক অজগর,
গিলে ফেলে আমাদের প্রেম-জন্মভূমি-ধ্রুবতারা!
কবিতার গা বেয়ে হামাগুঁড়ি দেওয়া চলে...
গোলাপের স্মৃতি বুকে করে নিয়ে,
এক ঝাঁক শালিকেরা রাত পোহায়।
মনে করি আমি, পাশে তুমি নেই, আছে কোন শঙ্খচিল!
একই বিছানাতে অ্যালার্ম ঘড়ি সেজে,
নিঃশব্দে সময়ের গোঁফে তা দেয়, জ্বলে ওঠা কোন মহাকাশযান।
সিঁড়ি ভাঙা অংকে, জিতেছ তুমি
নৈঃশব্দ্য তোমার নাম ধরে ডাকে এখন...অনন্ত...অনন্ত!
ছেলেটা মেয়েটা ও শব্দ পোঁড়া শ্রমিক দিবস
সেই ছেলেটা একটু দূরে, লাল জমেছে গাছে।
সেই ছেলেটা শব্দ শ্রমিক, আগুন কবির সাজে।
সেই ছেলেটা স্রোতের উপর, শঙ্খচিলের মাঝে।
সেই ছেলেটা আবডালেতে একলা বসে আছে।
এই মেয়েটা লড়বি নাকি? ধরবি নাকি হাত?
এই মেয়েটা ঘুমঘুম চাঁদ, সব হারানোর রাত।
এই মেয়েটা বোকার মরণ! হরিণ হরিণ চোখ।
আলের ধারে পুড়ছে শরীর, কর্ষণেরই শোক।
ওই ছেলেটা কবিতা লেখে, কাজ করেনা কিছু।
ওর বাপ ভাই মিলের মজুর, জীবন উঁচু নীচু।
কবিতা প্রেমিক, শব্দ কৃষক, এসব ফেসবুকেরই ভাষা!
আসল সোনা! বারুদ টারুদ! ঋতুর বিকেল ঘেঁষা।
এই ছেলেটার, এই মেয়েটার, স্বদেশ গড়ার স্বপ্ন!
আমার সে দেশ স্বৈরবলে, এখন শিকার খোঁজায় মগ্ন।
মারণাস্ত্রের ভেলা ভাসাই, সপ্তডিঙার চর।
যুদ্ধ এলো, গান বেঁধেছি, হিংস্র ও মন্থর...
দূরত্ত্ব বাড়ে…
এসো ছন্নছাড়া হয়ে যাই...
ফুটি ফাঁটা, ছাড়া ছাড়া, জরাজীর্ণ মানচিত্রের মতো।
এসো মুছে ফেলি গোটা কতক মানুষের অস্তিত্ত্ব!
কয়েক সৌরবর্ষ পেরিয়ে, তোমার শরীর মুছে যাক
আমার গুছানো সব আয়োজন থেকে..
মন-রং-আবহাওয়া এসব কিছুই বড় কল্পনাপ্রবণ!
এসো আমরা শূন্য হই!
বিচ্ছেদ...বিচ্ছিন্ন...
বিষাদের অনুবাদে আঁকা হোক মৃত্যুর চিত্রকল্প।
ভেসে যাক নদীটির মন।
ভেসে যাক বুনোফুল, জোড়া শালিকের দল।
ভীরু চোখে অসম্মান গিলে ফেলি চলো...
এক রাতপোড়া শালিবকের জন্য।
এসো আমরা স্বাধীন হয়ে যাই!
একাকী আলিঙ্গনে...
যে যার নিজের মতন করে,
বিনিসুতোর সর্বনাশ ডেকে আনি!
এসো আমরা অর্ধেক হই, তীব্র বিদ্রুপে...অবহেলায়!
Leave a Reply