খাদি…
হাওয়া গোলমেলে না হলে
স্বরচিত স্বাধীনতা পতপত করে পাখনা বিলাসী মেঘ হতে পারে
সব সকাল গুলো হতে পারে খাদি কাপড়ের যেমন খুশি সাজ...
খাদির ভিতর কাশ্মীর থেকে ভারত মহাসাগর
সেই আশৈশব ছুটে বেড়ায় এখনও আমাদের হৃদপিণ্ডের পাড় ঘেঁষে..
দেখতে পাই
নিরবিছিন্ন ডুবে যাওয়ার ভিতর
খালি গায়ে একটা লোক চরকা কাটছেন-
আকাশের চাকা ঘুরাচ্ছেন-
ভারতবের্ষর ভাগ্যের চাকা-
আপ্রাণ চেষ্টা করছেন
দেশের কপালে একটা লড়াকু সূর্য এঁকে দিতে-
না তিনি পিকাসো ছিলেন না বা
নিউটনের বন্ধু তবু নিরন্তর সূর্য বুনে চলেছেন চরকার ছন্দে..
সেদিন জখমি সিংহের মতো গর্জে উঠেছিল দেশ স্বাধীনতা সংগ্রামের বেতাজ জঙ্গলে-
বুকে বুকে সেই হু..হুঙ্কার
আজাদির স্লোগান
মানুষটি বুনে দিতে পেরেছিলেন ঈশ্বরের চেয়েও নিখুঁত ভাবে..
তিনি বুঝেছিলেন
স্বাধীনতা থালায় বেড়ে খাওয়া যায়না তাই দেশবাসির ভুখাপেট কে স্বস্তি দিতে আর দেহকে যুদ্ধের বর্ম দিতে
খাদিবস্ত্র শিল্পকে পরিণত করেছিলেন একক মেগা পোস্টারে-
সেই পোস্টার বাড়তে বাড়তে ছুঁয়েছিল দেশের প্রতিটি উঠোন-
আর সেই উঠোন গুলি থেকে উৎপন্ন যুবক-যুবতীর স্রোত আছড়ে পড়েছিল বিদেশি হুকুমের পাহাড়ী বুকে...
ডুবে যাওয়া অর্থনীতিকে টেনে তোলা হলো ডাঙায়-
বাহুতে দেওয়া হলো স্বদেশি বল আর পায়ের তলার মাটিকে করে দেওয়া হলো স্বরাজের জন্য পাগল-
তখন দেশের পূর্ব দিকে রোজই নিয়ম করে সূর্য উঠছে-
কখনও ভগৎ সিং কখনও সুভাষ কখনও হাজার হাজার মাস্টারদা সূর্য সেন..
হ্যাঁ সেদিন জখমি সিংহের মতো গর্জে উঠেছিল দেশ, শিকার করেছিল দুধর্ষ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদকে..
এখনও প্রতিটি রাত ১২টা, জেগে ওঠে বন্দেমাতরম ধ্বনি দিয়ে আর আ-সমুদ্র হিমাচল বিস্তৃত খাদির আঁচলের ভিতর হতে লাঠি হাতে একটি লোক হেঁটে আসেন কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত মিছিল নিয়ে..
Leave a Reply