একগোছা কবিতা
চুরি হয়েছে চোখ
তুমি কার?
কাকে বেশি ভালোবাসো তুমি?
তুমি কি মাতাল হবে আজ?
পথ ভুল করা মানেই
তোমার কাছে পৌঁছানো
গোধূলিকে সামনে দ্যাখো
শাসকের আইন চুলোয় যাক
মাটির পুতুলে বৃষ্টির বাঁক
গোটা রাত
গলির মোড়ে মোড়ে ঘুমঘুম
পথ বাকি
চুরি হয়েছে চোখ
গোধূলির আলো
গেলাসের তলে বুদবুদের অভিমান
দেখতে চাইলে জিপসি রাত
ফিরে ফিরে আসে আগুন চুম্বন
তুমি কার?
রক্তের চিকন স্রোত
গোপন গল্পের গ্রিনরুম
তুমিও লাশগুলো আবার দ্যাখো
ঘাসের দাগ কি আছে?
মুখের রেখায় বিষন্ন সূর্যমুখীর ঘ্রাণ
অনান্য সময়ের মতো
ঘিরে ধরে শোকের ছোপ
পাঁজরের থেকে কতো বড়
অপেক্ষা করছি
লাশগুলো গুনতে হবে
জানতে ইচ্ছে করছে
তুমি কি মাতাল হবে আজ?
ছবি
সব কি ঠিকঠাক আছে
দোল পূর্ণিমার চাঁদ দেখা হয় নি
আজ তো আঁধার নেমেছে
স্কুলে মৃত্যুর উৎসব
সংখ্যাটি কি শুধু অংকের খেলা?
রঙ খেলি নি আজ
ক্যামেরার লেন্সও খুঁজে পাইনি
আমার ছবি
সব কি ঠিকঠাক আছে
মাতাল হয়ে দেখছো সময়
শেষ বিদায় জানাচ্ছে পিতা
কপালে ছোট চুমুর দাগ
সংখ্যাটি কি পাটিগণিতের হিসাব?
নাজিম হিকমতের বুক পকেটে ভেজা চিঠি
একটা বাড়ি তৈরি করবো
তার ড্রয়িং সামনে
পলাশের গাছ থাকবে সামনে
ব্যালকনি থেকে দেখা যাবে তারাদের দল
শিউলি ফুলের খেলা
টেবিলে ধোঁয়া ওঠা চা
তবুও ড্রয়িং তার ওপর আবার আঁকিবুকি
বাড়ি আর হলো না
ছলনা সব চিকন সুতোর ডিগবাজি
হরমুজ প্রণালীতে ট্যাংকারের লাইন
তারাদের দল মাটি থেকে অনেক দূরে
যুদ্ধের সময় লোরকা মনে আসে
মায়াকোভস্কির প্রেমিকারা
এলোমেলো করে সব
বুক থেকে বের হওয়া রক্ত
মৃত্যুর জন্য প্রস্তত করে আমায়
সব কি ঠিকঠাক আছে?
দোল না খেলে শ্মশানে যাত্রার প্রস্তুতি
তাই অনেক ভালো
পূর্ণিমার আলো এ শহর থেকে
অনেক দূরে
ফার্মিয়ান
ঘুমহীন শরীরে দলছুট উপাখ্যান
বাজারে ভাড়ার মানুষের হইচই
খদ্দেরের দরদাম উত্তরের হাওয়ায়
তালাশের পিলে ভদ্দরনোকের মুখোশ
ষাট ষাট দরে চলে মানুষের দাম
নিয়ে চলে শূন্য শূন্য বুক
কম্পোজিট ফার্মিয়ন
ইলেকট্রনের সঙ্গে ক্ষুদ্র কোয়ান্টাম ঘূর্ণন
পলকার শহরে উসকে দিল
অলিগলির নিয়মকানুন
রাত হলে রেডলাইট এরিয়ায়
কড়া ঝাঁঝের দেশীয় বোতল
দলছুট বুকের শাড়ির আঁচল
কোয়ার্ক আপ আর ডাউন
ছায়ারা হাঁটছে রাস্তায়
আহত চোখ এ এক
অন্ধকারের অভ্যাস
ঘুমহীন শরীরে ষাট ষাট দরে চলে
মানুষের দাম...
এই শহর
এই শহর শুধু ধনীদের
এই শহর শুধু নেতাদের
এই শহর শুধু পুলিশের
এই শহর শুধু শাসকের
এই শহরে গরীব নেই
এই শহরে ভিক্ষুক নেই
এই শহরে চোর নেই
এই শহরে প্রজাপতি নেই
শুধু কেউ মরে গেলে
মরা মানুষের সাথে হাঁটা হয় এখানে
এই শহরের মানুষ শুধু একবারই
পায়ে হেঁটে চলে
কেউ যখন মারা যায়
তবে এই শহরে একশো বিশ দিন
কেউ মারা যায় নি
তাই একশো বিশ দিন কেউ
হেঁটে চলে নি
এই শহরে অন্ধকার নেই
এই শহরে মিছিল নেই
এই শহরে প্রেম নেই
এই শহরে দুঃখ কষ্ট নেই
এই শহরে দিনরাত শুধু
আলো ঝলমল করে...
বাবলাকাঠের আগুন
বাবলা কাঠের আগুন
: অভিজিৎ বসু
জলের ভেতর জল
জলের মধ্যে জল
মন খারাপ হলে মন দেখতে নেই
তার চেয়ে চলো মেঘ দেখে আসি
মেঘের চোখে বৃষ্টি
আগুনের ভেতর আগুন
ওপরে কাঠ
নিচে কাঠ
মধ্যিখানে লম্বালম্বি শরীর
চারিদিকে বাবলা কাঠের আগুন
কাঁদতে নেই
তারচেয়ে চলো খালি পায়ে হেঁটে আসি
রক্তের ভেতর রক্ত
মন খারাপ হলে ছায়া দেখতে নেই
তার চেয়ে চলো দুপুরের ভালোবাসা
দেখে আসি
রাস্তা
আরও একটা ক্লান্ত নদী চলেছে
মরে যাবার পর হ্যামলেটের বুকে কান্না
পৃথিবীকে জানার জন্য চারপাশে চোখ
চটি বইয়ে মানুষের ইতিহাস
উল্টো পাল্টা মাথা
এভাবে চলে যাওয়া
অসহায় বোধ শিকড় গেড়ে লড়াইয়ের গল্প
সাইলেন্স এভরি কর্ণার
লুকিয়ে যাও
হাঁটো হাঁটো
আমি পাগল
পাগল বলে পাগল?
আমরা মইরা গেছি
মস্তিষ্ক মরে গেছে
আত্মহত্যার প্রতিবেদন নিয়ে
রোজ বসে থাকি
ছায়ার ফুটপাথে
জ্বালায় ন্যাংটো হয়ে কাঁদছি
কিচ্ছু জানি না
বলবো না
এতো ব্যথা কেন?
এতো দুঃখ কেন?
শান্তি কবে?
ঘুমাও আমার আত্মা
পথ ছিল সুন্দর
মরার পর ইতিহাস
কেনো এসব কথা?
পাগল বললে আমায়
মাথা খারাপ করে ফেলো
হাঁটো
টকটক লাগে সব
মাঝে মাঝে মনে পড়ে
কালো এক নামতার পাতা
বুক জ্বলে জ্বলে রক্ত ওঠা
মানেটা কি কিচ্ছু না
মরা বাসিন্দার মতো বেড়াতে এলাম
চিন্তা করো আর ভাবো
না খাওয়া সবাই কি ঝুলবে
মনোভাব বুঝতে পারি না
অনেক পড়েছ অনেক দেখেছো
আগে মানেটা বুঝে নাও
খিদেতে আর মরবো না
সব জানা যাবে
বিগিনিং দ্যা ওয়ার্ল্ড অ্যাকশন
ভাবছি
আগুন ঘুরে ঘুরে রাগ করো না
চলেছি একা মজুর
ভেবে কি হবে?
দেহ দাও,ভাবনা দাও
ব্যথা আমারও আছে
সবাই উঠে হাঁটো
জড়ো করো পাঁজর গুলো
খবর নেও পাগল হলে ফিরে আনো সব
নীল আকাশ ফুটো করে চলো
শান্তি শান্তি
রাস্তা উঠে আসছে...
Leave a Reply