রিপুমন্ত্রে দীক্ষিত তানপুরাটি


১)
একা ঘরের জন্মদিনে সাদা পায়েস লিখেছি শূন্যপাত্রে। উপহারে ছুঁড়ে দেওয়া কথা, ভরে নিয়েছি গোপন কক্ষে। সেই সব খাম খুললে কখনো চুম্বন, কখনোও বা উদ্ভিদ ধুলোবালির মতো ঝরে পড়ে মুঠোর ভিতর। রকমারি গুলির মতো, গোল গোল ব্যথা তারা। কাচের বোতলে বন্দি কারি বাদরিয়া সেই মেঘ পুঞ্জ বৃষ্টি ঝরায় মনে, আর তারপর বায়ু ঘুরলে, হারিয়ে যায় বাবার মৃত্যুদিনের গভীরে।

২)

রিপুমন্ত্রে দীক্ষিত তানপুরাটি শুয়ে আছে চোখের আলোয়। তাকে প্রণাম করি পুজোয় বসে। প্রণয়গ্রন্থি জেগে ওঠে তারে তারে। আঙুলের পেলব মূর্ছনায়, তার অতল থেকে উঠে আসে আতপ নিবিড়তা । বিলাবল বাজে নাভির শিকড়ে। অন্ধকার মায়াপদ্ম, তোমায় আদর দিয়েছি এক আশ্চর্য বিকেলে, নিশ্চুপ করমচা বনে। এরপর, কফি ব্রাউনে ছোট্ট একটা চুমুক, আর তারপর-  'আহ' রব, জুঁই-জন্ম, বিরহানল - স্বাধীনতা দিবস ...

৩)

ফাউন্ডেশন আর ছদ্ম-ব্লাশের নীচে চাপা পড়ে গেছে প্রত্নপুরুষ। তার কঙ্কাল, চিনতেও পারছে না জাতিস্মর বাঁশি।  তাকে ভরসা দাও অনঙ্গমোহন, দস্যুবৃত্তি দাও আয়নার প্রতিফলনে - যাতে সে তীব্র চোখের কন্ট্যুর চিরে, কামসূত্রের উপপাদ্য সমাধান করতে পারে। আর বসন্তসেনা তার সমস্ত অলঙ্কার-বসন,  একে একে সমর্পিত করতে পারে নির্জন রাতের চাদরে।

৪)

একাকীত্ব বড্ড বিরক্ত করে আজকাল। অথচ কবিতা পড়তে বসলেই নিদ্রা অবশ করে ফেলে আমায়। রূপকগুলো গলা টিপে ধরে। চারদিকে গভীর অন্ধকার খাদ, তার চারপাশে পাহাড় চিকমিক করে। আমি সেই তারাদের দেশে, খুঁজে বেড়াই একটা পাহাড়ি ঝর্না, টয় ট্রেন, আর হাঁশুলিবাঁকের ধারালো উত্তেজনা। চিৎকার করলে পাহাড় ফিরিয়ে নির্মোহ নগ্ন শরীর -  সারাজীবনে পুঁজি ধস হয়ে পথ বন্ধ করে দেয়, সব।

৫)

গভীর ক্লিভেজ নয়, অর্জুন দেখছে ভাসপক্ষী। নারীটির কন্ঠ শূন্য। ফাঁকা বাড়িটির মতো খাঁ খাঁ করছে খিলান, গহনাশূন্য যেন। বিস্মৃতপ্রায় নাটমঞ্চ দখল করে  নিয়েছে প্রলোভনহীনতা। মরুভূমির মতো হুহু করছে তপ্ত বাতাস। দূষণ শব্দটি আপেক্ষিক... তাকে তাড়িয়ে দিলে, সৌন্দর্য মুগ্ধ করে চোখ। সেই সুন্দর-মনপবন, মুক্তচক্ষু - ঘিরে ধরুক মায়াবী আলিঙ্গনে প্রেমিক আলোটিকে...


Discover more from Shikor

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

মন্তব্য করুন

Trending